ডেটা থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার আয় করবে ফ্রিল্যান্সাররা : পলক

১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১১:০৮  
বিগ ডেটা, ডেটা অ্যানালিটিক্স, আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স, মেশিন লার্নিং, ডিপ লার্নিং বদলে দিতে যাচ্ছে আগামী পৃথিবীকে। এই খাতটায় এগিয়ে থাকতে ম্যাথ, ফিজিক্স ও কেমিস্ট্রর মতো ডেটা সায়েন্স-কে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। কেননা আগামী ১০০ বছর এই বিজ্ঞানটিই পৃথিবীকে নেতৃত্ব দেবে। এই প্রভাবকে কাজে লাগাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ডেটা অ্যানালিটিক্স ল্যাব, আইসিটি বিভাগে ডেটা বিশ্লেষণ সেন্টার স্থাপনের পাশপাশি ফ্রিল্যান্সারদে ইমেজ প্রসেসিং ও ডেটা লেভেলিং প্রশিক্ষণ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন  তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেন, আমাদের ন্যাশনাল পোর্টাল, গভর্নমেন্ট পোর্টাল, প্রাইভেট সেক্টর মিলিয়ে প্রচুর ডেটা রয়েছে। কিন্তু এ জন্য ডেটাগুলো শ্রেণীবদ্ধ করা; কোন ডেটা প্রকাশযোগ্য, কোনটা ব্যক্তিগত, কোনটা গোপনীয় তা নির্ধারণ করতে এগুলো প্রক্রিয়াকরণের অধীনে আনতে হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা ডেটা বিজ্ঞান নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের জন্য আইসিটি বিভাগ থেকে ‘আমার সরকার’ নামে ওপেন ডেটা এনালিটিক সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে সরকারি, বেসরকারি খাতের ওপেন ডেটাগুলোকে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে এই সেন্টারে। এরপর এগুলো বিশ্লেষণ করা হবে। এ জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে এক হাজার ডেটা এনালিটিক্স বিশেষজ্ঞ তৈরি করা হবে। সারা বিশ্বে যারা ডেটা বিশ্লেষণ নিয়ে কাজ করে তাদেরকে বাংলাদেশমুখী করতে ফ্রিল্যান্সারদেরও ডেটা বিশেজ্ঞতা অর্জনে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানান তিনি। এরই অংশ হিসেবে রাজধানীর বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি প্রাঙ্গনে ডেটা প্রক্রিয়াকরণ ও বিশ্লেষণের জন্য বিশেষায়িত একটি ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত ৩০ জানুয়ারি রাজধানীর বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে গবেষণা সহায়তা চুক্তি হয়েছে। চুক্তির অধীনে সেখানে একটি জিও স্পেশাল বা ডেটা অ্যানালিটিক্স ল্যাব স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন জুনাইদ আহমেদ পলক।
পলক বলেন, দেশে ৬ লাখ ফ্রিল্যান্সর কাজ করে কয়েক শ মিলিয়ন ডলার আয় করছে। তারা গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব সাইট তৈরি, ডিজিটাল মার্কেটিং করে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ ডলার আয় করছে। কিন্তু ইমেজ প্রসেসিং কিংবা ডেটা লেভেলিং এই জায়গাটায় বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে গেলে এই ৬ লাখ ফ্রিল্যান্সর ৬ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারবে।
পুরো পক্রিয়াটি সফল করতে ইতিমধ্যে ‘ডেটা প্রাইভেসি, প্রোটেকশন অ্যান্ড ডেটা লেকালাইজেশন’ আইন কারার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই আইনের অধীনে কোন মন্ত্রণালয় কোন ডেটা সবার জন্য উন্মুক্ত করবে সেই নির্দেশনা দেয়া হবে। একইসঙ্গে গুগল, ওরাকল ও মাইক্রোসফটের মতো বিদেশী কোম্পানি যেন সব ডেটা চুরি করে নিয়ে যেতে না পারে সেই সুরক্ষাও নিশ্চিত করা হবে। এজন্য দেশের শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য খাতের তথ্য শ্রেণীবিন্যাস, প্রক্রিয়াকরণ ও বিশ্লেষণে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাই কাজ করবে। ‘দেশের স্টার্টআপগুলোতে গত ৪ বছরে বাংলাদেশে ২০০ মিলিয়ন ডলারের ওপর বিদেশী বিনিয়োগ এসেছে’ উল্লেখ করে ‘আগামী ৫-১০ বছরের মধ্যে কয়েক বিলিয়ন বিনিয়োগ আসবে’ বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, স্টুডন্ট টু স্টার্টআপ প্রকল্পকে সফল করতে ইতিমধ্যেই ইনোভেশন ডিজাইন অ্যান্ড অন্টারপ্রেনর একাডেমির অধীনে ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড’ গঠন করা হয়েছে। এই কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা। কোম্পানিটির জন্য চলতি অর্থ বছরের বাজেটে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের গবেষণা জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ৪টি ক্যাটাগরিতে (প্রি-সিড, সিড, গ্রোথ এবং গাইডেড ও টার্গেটেড)একটি গাইডলাইনও অনুমোদন করা হয়েছে।